গ্রামে সেটেল্ড হবার কথা
গ্রামে সেটেল্ড হবার কথা আসলে সবার প্রথম দুশ্চিন্তা—"বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
গ্রামে তো ভালো স্কুল নেই, সুযোগ-সুবিধা কম, শহরের পড়াশোনা ছাড়া বাচ্চারা বড় হতে পারবে না।
" আজকের দিনে "সুশিক্ষা" শুধু শহরের চার দেয়ালের নামী-দামী স্কুলেই সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটে সেরা শিক্ষকরা এখন অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। আমি আমার সন্তানকে 'হোমস্কুলিং' বা ঘরে রেখে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষামূলক কোর্স , ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং, এবং ক্রিয়েটিভ কাজ তো ঘরে বসেই শিখতে পারবে। চাকরি বাকরির জন্য দরকার সার্টিফিকেট? সেটা তো পরিক্ষা দিলেই পাওয়া যাবে।তার জন্য তো প্রিতিদিন স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই।
শহরের স্কুলের গণ্ডিবদ্ধ সিলেবাসের চেয়ে এই পদ্ধতিতে বাচ্চার মেধার বিকাশ আরও স্বাধীনভাবে হয়। শহরের ফ্ল্যাট বাড়িতে বন্দি জীবন, এসি রুম, আর সারাদিন মোবাইল-ট্যাব স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা জীবনকে কি আসলেই 'উন্নত জীবন' বলা যায়?
বাকি থাকলো চিকিৎসা ব্যবস্থা। শহরের হাসপাতালগুলোতেও মানুষের হাহাকার দেখেছি। গ্রামে আমার সন্তান খাঁটি বাতাস পাবে, বিষমুক্ত তাজা খাবার খাবে, আর রোদে-বৃষ্টিতে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করে বড় হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক গঠনের জন্য এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কিছু হতে পারে না। যেখানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ট্রাফিক জ্যামের ক্লান্তি আর একাকীত্ব বড়দেরই মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় সেখানে বাচ্চারা কিভাবে প্রানভরে বাঁচতে পারে?
বইয়ের পাতায় 'সবুজ প্রকৃতি' বা 'নদী' চেনার চেয়ে, নিজের চোখে ব্যাঙের রূপান্তর দেখা, পাখির ডাক চেনা, গাছের পরিচর্যা করা এবং মাটির গন্ধ নেওয়া অনেক বড় শিক্ষা।
এই বাস্তব অভিজ্ঞতা কোনো শহরের এসি ক্লাসরুমে বসে পাওয়া সম্ভব বলে আপনার মনে হয়? হ্যাঁ, আমাদের হয়তো একটু বাড়তি কষ্ট করতে হবে, সন্তানের পড়াশোনার পেছনে আমাদের নিজেদের সময় ও শ্রম বেশি দিতে হবে।
কিন্তু একটি বাচ্চার সুস্থ শৈশব, রোগমুক্ত শরীর আর সুন্দর মানসিকতার চেয়ে দামি ক্যারিয়ার আর কিছু হতে পারে না। জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে আমার সন্তান একজন সুস্থ, সৎ ও দক্ষ মানুষ হয়ে উঠুক—এটাই আমাদের চাওয়া।
আসলে যার যার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে তার চাওয়া পাওয়ার উপর আপনার চাওয়া যদি হয় শহরের জাগজমকপূর্ণ জীবন তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত ওভাবেই হবে,সেরকম আমি আমার বাচ্চাদের জন্য গ্রামকে বেছে নিয়েছি এখন এখানে কিভাবে উন্নতভাবে থাকা যায়,ভালোভাবে থাকতে কি কি প্রয়োজন কি কি করতে হবে আমরা সেই চেষ্টাই করছি।